Type to search

Lead Story রাজনীতি

দায়িত্ব পেলে দেশের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত দায়িত্ব পেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বাস্তবে রূপ নেবে। যেখানে চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত শেষ নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে সিলেটি ভাষায় সবাইকে স্বাগত জানান। সিলেটকে বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এ সিলেটে এসেছিলেন, আমরাও সেই ধারার উত্তরসূরি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিতেও কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস পাবে না এবং কোনো অফিস-আদালতে ঘুস নেওয়ার সুযোগ বা সাহস থাকবে না। গত ৫৪ বছরে সব আমলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হয়েছে। গত দেড় দশকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে, দায়িত্ব পেলে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।  তারা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক সেই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত না করে শুধু শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।  আগে ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, এরপর কেউ লোভে অপরাধ করলে তার বিচার হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশে জুলুমের রাজনীতি চলেছে। আলেম-উলামা থেকে শুরু করে শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ কেউই এই জুলুম থেকে রেহাই পায়নি। সবচেয়ে বড় মজলুম দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে।  শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, হাজারো নেতাকর্মীকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে।  লাখো মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই জামায়াত ঘোষণা দিয়েছিল, দল হিসেবে কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না এবং সেই অঙ্গীকার তারা রক্ষা করেছে। প্রতিশোধের রাজনীতি বা মামলা বাণিজ্যে তারা যায়নি।  তবে খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকারদের ন্যায়বিচারের অধিকার রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে সেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।

সিলেটের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খনিজ সম্পদে ভরপুর হয়েও সিলেটবাসী ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না।  এখনো সব এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, নদীগুলো হত্যা করে কঙ্কাল বানানো হয়েছে।  বর্ষায় বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে মানুষ ভোগে, নিরাপদ পানির সংকট ও ড্রেনেজ সমস্যায় নগর ডুবে যায়। মদ, গাঁজা ও অস্ত্র সিলেটকে অস্থির করে তুলেছে, দায়িত্ব পেলে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়া হবে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না নামার সমালোচনা করে তিনি বলেন, নামেই নয়, কাজে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হবে। প্রবাসীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের হাতে আধুনিক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে, কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা হবে।  ‘জাল যার জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করে জেলেদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সুনামগঞ্জসহ হাওর এলাকার অবহেলা দূর করা হবে।

চা বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চা বাগানের নারী-পুরুষ ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও মর্যাদার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে এবং মেধাভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে শ্রমিকের সন্তানও একদিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারবে।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তবু তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আর কথা বলতে চান না।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। শেষে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনের জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। -যুগান্তর

Translate »