Type to search

জাতীয় বাংলাদেশ মিডিয়া

বাংলাদেশের নতুন নেতার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, সাংবাদিকরা এখনো গরাদের পেছনে

এক বছর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই বিক্ষোভের জেরে দুই সাংবাদিক নিহত হন। এরপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইউনূস গণমাধ্যমে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করেছিলেন, যা হাসিনার আমলে সাংবাদিকদের টার্গেট করার জন্য ব্যবহৃত হত। কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কাছে এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেছিলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগটি নিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার এই ধরনের মামলাগুলো পর্যালোচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে।’

প্রায় এক বছর পরেও খুনের প্ররোচনার অভিযোগে পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল হক বাবু এখনো কারাগারে রয়েছেন।

সাবেক শাসনব্যবস্থার প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বারবার এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেন্সরশিপ বলে মনে করছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। এই ধরনের আইনি অভিযোগ ছাড়াও সিপিজে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি এবং নির্বাসনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যার অভিযোগে কমপক্ষে ২৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। এই অভিযোগটি তোলা হয়েছে সাবেক হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত সাংবাদিকদের টার্গেট করে।

সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক বেহ লিহ ই বলেছেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই চারজন সাংবাদিককে এক বছর কারাগারে আটকে রাখা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন করে।’ তিনি মনে করেন, ‘প্রকৃত সংস্কারের অর্থ অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া, অতীতের অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি নয়। আগামী মাসগুলোতে দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে সাংবাদিকদের রিপোর্ট করার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।’

-দৈনিক মানবজমিন

Translate »