ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ হয়।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সৌরভ রায়, রফিক আহমেদ ও মনোয়ারুল ইসলাম।
ফয়জুল হাকিম বলেন, বিশ্বসন্ত্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সন্ত্রাসী দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও মিসাইল হামলা চালিয়ে শত শত ইরানি নাগরিককে হত্যা করেছে। হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এ সামরিক হামলায় সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র এবং আরবের দালাল শাসকগোষ্ঠী।
ফয়জুল হাকিম বলেন, ইরান নিজ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ও ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলে ন্যায়সঙ্গতভাবে পালটা মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন, লেবানন, প্যালেস্টাইন, ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদ-জায়নবাদ বিরোধী জনগণ এ হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে ঔপনিবেশিক যুগের অবসান হয়ে গেছে। আজকের যুগে উপনিবেশ কায়েম আর সম্ভব হবে না। এ যুগ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের পতনের যুগ, বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র কায়েমের যুগ। এ যুগে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ‘গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে দেশে যে সামরিক আগ্রাসন পরিচালনা করে চলেছে তা রুখে দাঁড়াতে হবে।
ফয়জুল হাকিম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ লংঘন করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার’ আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের এ বিবৃতিতে আক্রমণকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং আক্রান্ত ইরানকে এক করে দেখা হয়েছে। এমনকি ইরানের নিন্দা পর্যন্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতি বাংলাদেশের জনগণ নিন্দা জানায় ও প্রত্যাখ্যান করে। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ সরকার কি স্বাধীন সার্বভৌম ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা সমর্থন করে? সরকারকে এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
সৌরভ রায় বলেন, সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল ইরানের তেল সম্পদ দখল করতে চায়। তারা চায় আরবভূমি দখল করে ইসরাইলের সম্প্রসারণ করতে এবং রাশিয়া ও চীনকে মোকাবিলায় পশ্চিম এশিয়ায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে। তারা ইরান দখল করতে এবং ইরানের জনগণকে পায়ের নিচে রাখতে চায়। ইরানের স্বাধীনতাকামী জনগণ তা হতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, এ বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাতে বিমান হামলা চালিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এখন কার্যতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কিউবা দখলের হুমকি দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা ও কিউবার জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজ দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।
রফিক আহমেদ বলেন, বিশ্বসন্ত্রাসী সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা ২০০১ সালে আফগানিস্তান, ২০০৩ সালে ইরাক, ২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক হামলা চালিয়ে এসব দেশের সরকারকে উৎখাত করে, লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে দেশগুলোকে দখল করেছে। এ দেশগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত করে, ধ্বংস করে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। এই সাম্রাজ্যবাদীরা সিরিয়াকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে দেশটিকে ধ্বংস করেছে। তারা গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে অযুত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব দল ও সংগঠন আজাদির ধ্বনি তুলে মাঠ গরম করে তারা এখন ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ মার্কা কথা বলছেন। এরাও সাম্রাজ্যবাদের দালাল, তাদেরকেও চিনতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।
মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্বর সন্ত্রাসী পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা উপনিবেশের যুগে ফিরে যেতে চায়। তারা এশিয়া আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হরণ করে পুনরায় প্রত্যক্ষ উপনিবেশ স্থাপন করতে চায়। এখন তারা ইরানকে দখল করতে চায়। ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের করে তাদের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় জনগণকে আজ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। -দৈনিক যুগান্তর

