ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন আমি কী করব তা কেউ জানে না : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। তবে তিনি এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এদিকে বুধবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আমি কী করব তা কেউ জানে না। খবর বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা, সিবিএসের।
গোপন এক গোয়েন্দা সূত্র সিবিএসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনই হামলা শুরু করতে চান না। তিনি চাইছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দিক। তিনি ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ফর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তার ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে গেছে। ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান সংঘাত নিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এটি বলতে পারব না। আপনি ভাববেন না আমি এ প্রশ্নের উত্তর দেব। তিনি বলেন, আপনি জানেন না আমি এটি (হামলা) করব কি না। আপনি জানেন না। আমি হামলা করতে পারি। আমি হামলা নাও করতে পারি। আমি বোঝাচ্ছি, কেউ জানে না আমি কী করতে যাচ্ছি।
ট্রাম্প বলেন, আমি আপনাকে বলতে পারি ইরান অনেক সমস্যায় আছে এবং তারা আলোচনা করতে চায়। আমি তাদের বলেছি, তাহলে কেন আগে আলোচনা করেননি। আমি বলেছি, কেন দুই সপ্তাহ আগে আলোচনা করেননি। আগে আলোচনা করলে আপনারা ভালো করতেন। আপনাদের দেশ থাকত। তিনি আরও বলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, এর অর্থ হচ্ছে আমার ধৈর্য শেষ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় এক সিনেটরের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য যুদ্ধ আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে পেন্টাগন প্রস্তুত আছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটে শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি ইরানে হামলার কোনো বিকল্প পরিকল্পনা দিয়েছেন কি না, সেই বিষয়ে তিনি পাবলিক ফোরামে কথা বলতে রাজি নন। তবে শান্তি বা যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত আছে।
হেগসেথের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি জড়ো হচ্ছে। ইউএসএস নিমিৎসের নেতৃত্বাধীন বিমানবাহী একটি রণতরি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাচ্ছে। সেখানে আগে থেকে মোতায়েন ইউএসএস কার্ল ভিনসনের সঙ্গে এই রণতরি যোগ দেবে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অন্যান্য সামরিক বিমান, জ্বালানি ট্যাংকারও ইউরোপ থেকে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যার মধ্যে এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। বিবিসি জানতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া বা সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে চায় এমন কোনো কিছু তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যকে জানায়নি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব ঘাঁটি থেকে হামলা চালাতে চায়, তবে আগেই তারা মিত্রদেশকে জানায়। যুক্তরাজ্যের একটি সূত্র জানিয়েছে, সব বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তবে মার্কিন পরিকল্পনা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ওদিকে ব্ল–মবার্গ বুধবার জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানে সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উলেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বিবর্তিত এবং এটি পরিবর্তন হতে পারে। কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে সম্ভাব্য হামলা হতে পারে।
আর, দ্য টেলিগ্রাফকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এখন এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়ানোর ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ সূত্র সিবিএসকে জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের বিষয়ে সম্মত হয় কিনা তা দেখার জন্যই ট্রাম্প মূলত হামলা থেকে বিরত রয়েছেন।
-দ্য টেলিগ্রাফ

