Type to search

Lead Story আন্তর্জাতিক জাতীয় বাংলাদেশ

তারেক রহমান ও খামেনিসহ নির্বাসন ফেরত যেসব নেতা বীরের বেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন

শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বহু দেশে বিরোধী নেতাদের নির্বাসনে যেতে হয়েছে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত বিশ্বে এ চিত্র আরও প্রকট। তবে ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে—নির্বাসন বা কারাবাস শেষে দেশে ফিরে কেউ কেউ বীরের বেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

সর্বশেষ আলোচিত উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে তারেক রহমানের নাম। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের অবস্থান শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি ব্যাপক সংবর্ধনা পান। অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে নির্বাচনী বিজয়ে পৌঁছে দেওয়া তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে এমন প্রত্যাবর্তনের আরও নজির রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খামেনি দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর ১৯৭৯ সালে দেশে ফিরে ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস শেষে মুক্ত হয়ে পরবর্তীতে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এছাড়া পাকিস্তানের রাজনীতিতে নওয়াজ শরিফ সামরিক শাসনামলে নির্বাসনে গিয়ে পরে দেশে ফিরে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এসব উদাহরণ দেখায়, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সবসময় শেষ কথা নয়; কখনও কখনও তা প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায়ও রচনা করে।

তারেক রহমান

দেশের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারেক রহমান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান তিনি।

লন্ডনে টানা প্রায় ১৭ বছর অবস্থান করেন তারেক রহমান। এ সময়ে দেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়ায় তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মী দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। দলটির প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। পরবর্তী সময়ে দেশে ফেরেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

বেনজির ভুট্টো: নির্বাসন থেকে পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর ১৯৭৭ সালে জন্মভূমি পাকিস্তানে ফেরেন বেনজির ভুট্টো। একই বছরের মধ্যে সেনাশাসক জিয়া উল হক ক্ষমতা দখল করেন। তখন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোকে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির দণ্ড প্রদান করা হয়, যা বেনজিরের রাজনীতিতে প্রবেশের পথ খুলে দেয়।

জিয়া উল হকের সরকার তাকে বহুবার গ্রেপ্তার করে। দমন-পীড়ন এড়িয়ে বেনজির ১৯৮৪ সালে লন্ডনে যান এবং ১৯৮৬ সালে দেশে ফেরেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি জনমত গঠন করেন এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট তিনি বরখাস্ত হন।

১৯৯৩ সালের নির্বাচনে তিনি আবার জয়লাভ করেন ও দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর তাকে পুনরায় বরখাস্ত করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান।

এছাড়া ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ও চার্লস ডি গল, রাশিয়ার ভ্লাদিমির লেনিন, মিয়ানমারের অং সান সু চি প্রমুখ নেতা নির্বাসন বা বন্দিত্বের পর ফিরে এসে দেশের শীর্ষ ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল।

Translate »