ইসরায়েলের জন্য দুঃসংবাদ, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে
হোয়াইট হাউসে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ফিলিস্তিন নিয়ে মার্কিন নেতাদের অবস্থান প্রায় একই রকম থাকে। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা, বাস্তুচ্যুতি কিংবা অবরুদ্ধ জীবনের কোনো দৃশ্যই মার্কিন শাসকদের নীতি বদলাতে পারেনি।
তবে নেতাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও মার্কিন সাধারণ মানুষের মনোভাবের মধ্যে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের উচিত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
রয়টার্স ও ইপসসের যৌথ পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন এবং নয় শতাংশ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
ছয় দিনব্যাপী অনলাইন জরিপে অংশ নেন চার হাজার ৪৪৬ জন মার্কিনি। তাদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৭৮ শতাংশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ৪১ শতাংশ ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তবে সাধারণ মার্কিনদের দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তন ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
নিউইয়র্ক শহরে গাজাবাসীর পক্ষে সমাবেশ। ছবি: রয়টার্স
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহু মার্কিনি বিশ্বাস করেন আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ বিদেশে ব্যয় না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত।
রয়টার্স-ইপসসের জরিপে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি চান যুক্তরাষ্ট্র গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াক। একইসঙ্গে ৫৯ শতাংশ মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় অতিরিক্ত সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
গাজার পরিস্থিতি বোঝাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম রিপাবলিকান সদস্য হিসেবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেন উগ্র ডানপন্থি ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মারজোরি টেইলর গ্রিন। টাইম ম্যাগাজিনের ৩১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তিনি একা নন; আরও অনেক রিপাবলিকান নেতাও প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করছেন। ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ট্রাম্পও গাজায় খাদ্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার কারণে ইসরায়েল প্রশ্নে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সুর তৈরি হচ্ছে। অনেক রিপাবলিকানও গাজার খাদ্যাভাব দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন জনমনে ফিলিস্তিনপ্রীতির এই উত্থান যদি পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত হয়, তবে তা ইসরায়েলের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, বিশ্বে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ইসরায়েল সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।
-রয়টার্স

