ভারতকে ১ রানে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়
সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল ভারতের। তবে রান তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন দুই ওপেনার, আর পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই হারায় চারটি উইকেট।
এমন বিপর্যয়ের মধ্যেও তিলক ভার্মার দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে ভারতের। শেষ ওভারে জমে ওঠে রোমাঞ্চ, তবে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি তারা। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। সিরিজ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখে স্বাগতিকরা।
রোববার (২৮ জুন) বেলফাস্টে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডের জয় ১ রানে।
এই হারের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের টানা ১৬টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার দারুণ ধারার ইতি ঘটল। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারার পর এবারই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাজয়ের স্বাদ পেল তারা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলারদের চাপে রাখে স্বাগতিকরা। আর্শদীপ সিংয়ের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক সূচনা এনে দেন রস অ্যাডেয়ার। তবে বাউন্সি উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুতই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ভারতের পেস আক্রমণ। অল্প সময়ের ব্যবধানে টিম টেক্টর ও অ্যাডেয়ারকে ফিরিয়ে দিয়ে আইরিশদের চাপে ফেলে তারা। ফলে পাওয়ারপ্লে শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৪ রান।
এরপর অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা প্রিন্স যাদব নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট হিসেবে ফেরান আইরিশ অধিনায়ক লরকান টাকারকে। ৫৮ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন হ্যারি টেক্টর ও বেনজামিন ক্যালিটজ। দুজনের দায়িত্বশীল জুটিতে ধাক্কা সামলে আবারও লড়াইয়ে ফেরে আয়ারল্যান্ড।
চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ৬৫ রানের জুটি ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ক্যালিৎজ ৩৭ এবং টেক্টর ৫৩ রান করেন। শেষদিকে প্রিন্স যাদবের দুর্দান্ত ডেথ ওভার বোলিংয়ের কল্যাণে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ভারতের পক্ষে প্রিন্স ২২ রানে ৩টি ও শিবম দুবে ২৫ রানে ২টি উইকেট নেন।
১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন জয় মুন্দ্রা। ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা—দুজনেই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন। শ্রেয়াস আইয়ারও মাত্র ৪ রান করে মুন্দ্রার বলে বোল্ড হলে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এরপর ঈশান কিষাণ রান আউটের শিকার হলে ৩৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় সফরকারীরা।
পঞ্চম উইকেটে তিলক ভার্মা ও অক্ষর প্যাটেল ৩৯ রান যোগ করে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বৃষ্টির কারণে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও ভারতের লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকে। অক্ষর ও শিবম দুবে দ্রুত বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিলক বর্মা। ৪৭ বলে ৫৫ রান করা তিলক যখন ম্যাথু হল্যান্ডের শিকার হয়ে ফিরছেন, ভারতের হার তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল।
কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন হর্ষিত রানা। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। হ্যারি টেক্টরের করা সেই নাটকীয় ওভারে ছিল ওয়াইড, নো-বল আর বাউন্ডারির ছড়াছড়ি। সমীকরণ যখন ২ বলে ৮ রান, তখন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন হর্ষিত রানা। শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ৭ রান, স্ট্রাইকে থাকা প্রিন্স যাদব ছক্কা হাঁকালেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৫২ রানেই থামে ভারতের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ম্যাথু হল্যান্ড ২৬ রানে এবং জয় মুন্দ্রা ৩২ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। ১ রানের এ জয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রূপকথা লিখল আইরিশরা।

