অর্ধেক দামের সরকারি এলপিজি যায় কোথায়
রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১,৮৩৭ টাকা। সেখানে সরকারি সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৭৭৭ টাকা। অথচ কম দামের সরকারি এ গ্যাসের দেখা মিলছে না কোথাও। বছরে ১৮-২০ লাখ সিলিন্ডার বাজারে ছাড়ার পরও ভর্তুকিমূল্যের এ গ্যাস কোথায় যাচ্ছে—সে প্রশ্ন উঠছে।
জটিল এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে নেমে পাওয়া যায় সরকারি সম্পদ লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। উৎপাদিত এলপিজির ২০-৩০ শতাংশ ভর্তুকিমূল্যে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্যারাকে এবং ১০-১২ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে গেলেও বাকিগুলো পাচার হয়ে যাচ্ছে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের গুদামে। ৭৭৭ টাকার গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ২,০০০-২,২০০ টাকায়।
কোটি কোটি টাকার এ পাচার সিন্ডিকেটে যুক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস পিএলসি, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা অয়েল, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের নিযুক্ত ‘কাগুজে ডিলার’রা। তাদের একেকজন ১০-১৫ জনের বরাদ্দপত্র নিয়ে এসে সবার পক্ষ থেকে সিলিন্ডার তুলে নেন। এভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকিমূল্যের সরকারি এলপিজি আত্মসাৎ করে প্রতি বছর লুটে নেওয়া হচ্ছে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা।
সাধারণ মানুষ কিনতে পারেন না
এলপিজিএল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উৎপাদিত এলপিজির ২০ শতাংশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্যারাকে সরবরাহ করার কথা। বাকি গ্যাস সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, কারখানার আশপাশের সাধারণ মানুষ এবং ১,৯১২ জন তালিকাভুক্ত ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে খোলাবাজারে বিক্রি করার কথা।
সূত্রমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যমুনা অয়েলকে চার লাখ এক হাজার ৪৩৯ সিলিন্ডার, মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে চার লাখ ২৪ সিলিন্ডার, পদ্মা অয়েলকে তিন লাখ ৯৫ হাজার ২০১ সিলিন্ডার, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানিকে ৩১ হাজার ৬৪১ সিলিন্ডার এলপিজি বিতরণের জন্য দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে সরাসরি এলপিজিএল থেকে বিতরণ করা হয় এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৪ সিলিন্ডার এলপিজি।
এছাড়া প্রতিটি ডিপো থেকে তেল কোম্পানিগুলো সেনাবাহিনীকে আরো ১০-১২ শতাংশ সরবরাহ করে বলে জানান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আমীর মাসুদ। যদিও সেনাবাহিনী ও কোম্পানির নিজস্ব কর্মী ছাড়া অন্য কেউ ভর্তুকিমূল্যের এ গ্যাস কেনার সুযোগ পান না বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
‘কাগুজে ডিলার’
বিপিসি ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের ডিলারব্যবস্থাকে কাগুজে ডিলার হিসেবে অভিহিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক অনুমোদিত ডিলারের বাস্তবে কোনো বৈধ খুচরা বিপণন কেন্দ্র বা সাধারণ গ্রাহক নেটওয়ার্ক নেই । তারা কারখানা থেকে সরকারি মূল্যে সিলিন্ডার বরাদ্দ পান। পরে সেগুলো সাধারণ ভোক্তাদের না দিয়ে সরাসরি কালোবাজারে বা বেসরকারি অপারেটরদের কাছে বিক্রি করে দেন ।
সিন্ডিকেট ডিলাররা সরকারি সিলিন্ডারগুলো সাধারণ বাজারে না ছেড়ে নির্দিষ্ট কিছু গোপন ডিপো বা কারখানায় নিয়ে যান। সেখানে সরকারি সিলিন্ডারের গ্যাস কম দামে কিনে তা বেসরকারি কোম্পানির খালি সিলিন্ডারে রিফিল করা হয়। এভাবে সরকারি গ্যাসকে সাধারণ গ্যাসে পাল্টে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করা হয়।
সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ডিলারশিপ
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এলপিজির ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীদের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্থানীয় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ বেশি। বছরের পর বছর একই চক্র ডিলারশিপ নবায়ন করে আসছে। বিপিসির অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় ডিলারদের এই গোপন আঁতাতের কারণে সাধারণ নতুন কোনো উদ্যোক্তা ডিলারশিপের জন্য আবেদন করলেও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা এবং শর্তের বেড়াজালে তা সহজে অনুমোদন পায় না।
সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস পিএলসির অধীন গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের জন্য বর্তমানে দেশজুড়ে সর্বমোট ১৪টি অনুমোদিত ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ সরাসরি নিয়োজিত রয়েছে। তবে এই প্রধান ডিলারদের বাইরেও বিপিসির মূল তিনটি তেল বিপণনকারী কোম্পানি—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের নিজস্ব ডিলার ও পেট্রোল পাম্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার সীমিত পরিসরে বিতরণ করা হয়।
দুদকের অভিযানে ভয়াবহ চিত্র
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম সম্প্রতি বিপিসি এবং এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা যায়, একজন ডিলারই ১০-১৫ জন ভিন্ন ডিলারের ভুয়া অথরাইজেশন (অনুমতিপত্র) ব্যবহার করে সবার গ্যাস ফ্যাক্টরি থেকে তুলে নিচ্ছেন।
অভিযানে দুদক প্রমাণ পায়, বিপিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বছরের পর বছর মেয়াদোত্তীর্ণ এবং সম্পূর্ণ জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে উত্তোলন করে বেসরকারি সিলিন্ডারে রিফিল (ক্রস-ফিলিং) করে পাচার করা হচ্ছিল।
উত্তরবঙ্গের খণ্ডচিত্র
পদ্মা অয়েল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম পিএলসির বগুড়া সেলস অফিসের দায়িত্বে থাকা সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মাহবুবুর রহমানের দেওয়া তথ্যেও পাওয়া যায় অনিয়মের চিত্র। আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার জন্য এই অফিসে প্রতি মাসে ৪৭৫টি করে আটবার সিলিন্ডার আসে। এর মধ্য থেকে ৭০-৭৫ শতাংশ সিলিন্ডার যায় ছয়টি ক্যান্টনমেন্টে। ১০-১৫টি পড়ে ড্যামেজ। বাকিগুলো ২০০ ডিলারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এভাবে একেকজন ডিলার প্রতি ২৫-২৬ দিন পরপর ১০-১২টি করে সিলিন্ডার পান। একজন ডিলার কয়েকজনের বরাদ্দপত্র নিয়ে এসে সবগুলো সিলিন্ডার একসঙ্গে উত্তোলন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পরিমাণ কম হওয়ায় প্রত্যেক ডিলার আলাদাভাবে নিতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়।
উত্তোলনকৃত সিলিন্ডার ডিলারদের বাইরে বিক্রি করার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ৮৫০ টাকার সিলিন্ডার ৯৫০ টাকায় বিক্রি করলেও আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। তবে অধিকাংশ ডিলারই এই দামে গ্যাস বিক্রি করেন না বলে স্বীকার করেন তিনি।
বাজারে অবস্থান ১.৩-১.৫ শতাংশ
সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে এলপিজির বার্ষিক মোট চাহিদা ১৫-১৮ লাখ টন। মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। বাকি ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক শিফটে চট্টগ্রামের প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ২৫ হাজার টন এবং কৈলাশটিলার প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক আট হাজার টন হলেও বাস্তবে দুই প্ল্যান্ট থেকে বার্ষিক সর্বমোট উৎপাদন হচ্ছে ২০ হাজার টনের মতো। দেশের মোট এলপিজির মাত্র ১.৩-১.৫ শতাংশ সরবরাহ করছে সরকারি এই কোম্পানি।
এলপিজিএলের দাবি, উৎপাদিত এলপিজির একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি কোয়ার্টার, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আবাসিক এলাকা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। প্ল্যান্টের আশপাশের এলাকা এবং ডিলারদের মাধ্যমে কিছু সাধারণ গ্রাহক এই সিলিন্ডার কেনার সুযোগ পান।
বিপিসির চরম অদক্ষতা
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও বিপিসি এক্ষেত্রে চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও গত আট মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি সংস্থাটি।
তাদের বক্তব্য, পাঁচ দফা দরপত্র আহ্বান করলেও সরবরাহকারী পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে সরবরাহকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া দাবি করায় সরবরাহকারী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান বিপিসি কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেসরকারি আমদানিকারকরা নিজেদের জন্য প্রতি টন এলপিজি ২০০ টাকা জাহাজ ভাড়ায় আমদানি করলেও বিপিসিকে সরবরাহের ক্ষেত্রে ২৭০ টাকার নিচে নামতে নারাজ। কারণ হিসেবে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের ক্ষেত্রে নানারকম ‘লুকায়িত ব্যয়’-এর কথা উল্লেখ করেন।
লক্ষ্যের প্রতি অবিচার
এলপিজি পিএলসি গঠনের উদ্দেশ্য হিসেবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সহজে পরিবহনযোগ্য জ্বালানি হিসেবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত এলপিজি বোতলজাত করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ভোক্তার দোরগোড়ায় সহজ ও সূলভ মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবতা হলো, সরকারি এই ভর্তুকিমূল্যের সেবা থেকে সাধারণ গ্রাহক পুরোপুরি বঞ্চিত।
অভ্যন্তরীণ উৎসের এলপিজি বোতলজাত ও বিতরণ, ঘাটতি মেটাতে আমদানি এবং গৃহস্থালি জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল কোম্পানিটি। কিন্তু বাস্তবে দেশের এলপিজি বাজারে প্রতিষ্ঠানটি ন্যূনতম প্রভাবও বিস্তার করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে এমন ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য
সাধারণ মানুষ কেন সরকারি গ্যাস কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না—জানতে চাইলে এলপি গ্যাস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আমীর মাসুদ আমার দেশকে বলেন, সিলিন্ডার বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল আমাদের নেই। ফলে বিতরণের ক্ষেত্রে আমাদের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং এশিয়াটিক অয়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাছাড়া বাজারে সরকারি কোম্পানির অংশগ্রহণ এত কম যে, আমরা চাইলেও প্রভাবিত করতে পারি না।
ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে স্বল্পমূল্যে কাঁচামাল পাই বলেই গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে দিতে পারছি। দাম বাড়াতে আগামী ২৫ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেনাবাহিনীর বরাদ্দ প্রসঙ্গে আমীর মাসুদ বলেন, আমরা সরাসরি সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঘাঁটিগুলোয় মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ বিতরণ করে থাকি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনারও ১০-১২ শতাংশ সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কথা।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্যাস ডিলারের মাধ্যমে বোতল পরিবর্তন হয়ে সাধারণ গ্যাস হিসেবে বাজারে বিক্রি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
বাজারের নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে এলপি গ্যাস পিএলসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাজারে আমাদের অংশগ্রহণ মাত্র ১.৩৩ শতাংশ। বাজার অংশগ্রহণ ২০-৩০ শতাংশ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ভূমিকা রাখার তেমন সুযোগ নেই। স্টোরেজ সক্ষমতা না থাকায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাজার অংশগ্রহণ বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাগেরহাটের মোংলায় ৬.৩৭ একর জমিতে ৮,২০০ টন এলপিজি মজুতের ট্যাংক তৈরির প্রস্তুতি চলছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও রাজাবাড়ীতে ৬.৯১ একর এলাকায় মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাঁচবার দরপত্র আহ্বান করেও এলপিজি কিনতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে প্রকৌশলী আমীর মাসুদ বলেন, আমাদের যারা সরবরাহকারী, তারা নিজেরাও প্রাইভেট সেক্টরের ব্যবসায়ী। এমনও হতে পারে, তারা চান না সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হোক।
ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াজাত করার সময় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) উপজাত হিসেবে উৎপাদিত এলপিজি বোতলজাতপূর্বক গার্হস্থ্য কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৭৭-৭৮ সালে চট্টগ্রামে এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্ল্যান্ট প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। বিপিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এলপিজি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
১৯৮৩ সালে বিপিসির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আকারে যাত্রা শুরু করে এলপি গ্যাস লিমিটেড। ১৯৮৮ সালে এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। পরে ১৯৯৫ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলায় এলপিজি সংরক্ষণ, বোতলজাত ও বিতরণ প্রকল্প হাতে নেয় বিপিসি, যা ১৯৯৮ সালে উৎপাদনে যায়। ২০০৩ সালে প্রকল্পটিকে চট্টগ্রামের এলপি গ্যাস লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করা হয়। -আমার দেশ

