গ্যাস সংকটে শিল্পে বিপর্যয়
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে দেশের জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে আমদানিনির্ভর করে তোলার নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে শিল্প খাতে। বিদ্যুৎ খাতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্র এবং গ্যাস খাতে এলএনজি আমদানিকেন্দ্রিক নীতির ফলে দেশীয় জ্বালানি উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়েছে—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি, এই নীতির ফলে একদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়ে শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানা গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অধিকাংশ কারখানাই টিকে থাকার লড়াই করছে। এর ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানা মালিক জানান, কয়েক বছরের সংকট ছাপিয়ে গত এক সপ্তাহের পরিস্থিতি খুবই ভয়ানক। শিল্পকারখানাগুলো এখন একেবারেই গ্যাস পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই বাধ্য হয়ে উৎপাদন সীমিত করেছেন, কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে জ্বালানি সংকট থাকলেও তা কোনো না কোনোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এতটাই প্রকট হয়েছে যে, অনেক কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ থাকছে, কোথাও আবার প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় যন্ত্রপাতি সচল রাখা যাচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজারেও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহু কারখানায় শ্রমিকরা প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও উৎপাদন না থাকায় কার্যত অলস সময় পার করছেন। মাস শেষে কেউ নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন, আবার অনেকে চাকরি টিকিয়ে রাখার আশায় কম বেতন বা বিলম্বিত বেতন মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, ভুলতা ও গাউছিয়া এলাকার শত শত টেক্সটাইল, ডাইং ও গার্মেন্টস কারখানায় গ্যাসের চাপ গত কয়েকদিন ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় ১–২ পিএসআই-এ নেমে আসে। এমনকি শূন্যেও পৌঁছায়। অনেক কারখানায় দিনের বেলায় উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে সীমিত পরিসরে কাজ চালাতে হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ও শ্রমঘন এলাকা গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে বহু কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। শিল্পমালিকদের দাবি, অনেক সময় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই চিত্র সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জ এলাকার। এসব এলাকার তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও নিট শিল্পে গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
শিল্পমালিকদের সংগঠনগুলোর হিসাবে, গ্যাসনির্ভর ৪০০-৪৫০ কারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতার অনেক নিচে উৎপাদন করছে। অনেক শিল্পে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে কমপক্ষে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন হলেও বাস্তবে অনেক সময় ২-৩ পিএসআই, এমনকি শূন্য পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের ঘাটতির কারণে কিছু কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন।
কীভাবে চলছে কারখানা
দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ছোট-বড় বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, গ্যাস সংকটে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। কিছু কারখানা দিনের ২-৩ ঘণ্টা চালু রাখা যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কথা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান যাবের অ্যান্ড জোবায়ের-এর মহাব্যবস্থাপক সিফাত হোসেন ফাহিমের সঙ্গে। তিনি আমার দেশকে জানান, সকাল আটটা থেকে কারখানায় শ্রমিকরা কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু গ্যাসের অভাবে ফ্যাক্টরির জেনারেটর চলছে না। তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত কারখানায় গ্যাসের প্রেসার প্রায় শূন্যের কোটায় অবস্থান করছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে এমনই চিত্র বলে জানান তিনি।
গ্যাসের প্রেসার সাধারণত কত হলে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ঠিক রাখা যায়Ñ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মিনিমাম ইনলেট প্রেসার ২৫ পিএসআইজি ও আউটলেট প্রেসার ৮ হলে কারখানার উৎপাদন ঠিক রাখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গড় প্রেসার ২-৪ এর মধ্যে নেমে গেছে।
গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার একটি কারখানার মালিক আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, তিনি গত ৮-৯ মাস ধরেই কারখানার মোট সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে পারছেন। মূলত গ্যাস সংকটই এজন্য দায়ী। আর এভাবে উৎপাদনে ধস নামায় ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তার বিনিয়োগ।
কোনাবাড়ী এলাকার একটি বস্ত্রশিল্পের মালিক আলমগীর হোসেন আমার দেশকে জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরেই জয়দেবপুর এলাকায় অবস্থিত তিতাসের জোনাল অফিসে যোগাযোগ করে গ্যাসের প্রেসার বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি দাবি করেন, গ্যাস না থাকলেও মাস শেষে বিল ২-১ দিন বকেয়া রাখা যায় না। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আবার বিল দিয়ে সংযোগ নিতে গিয়ে পড়তে হয় নানা জটিলতায়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট। গাজীপুরে পাঁচ হাজারের বেশি কলকারখানা রয়েছে, যার বেশিরভাগই গ্যাসনির্ভর। সম্প্রতি প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে এক লাখ চার হাজার ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে বলে জানিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে গ্যাসভিত্তিক কারখানা। উৎপাদন নেমে এসেছে ৩০ ভাগে।
গ্যাসের সরবরাহ নেই
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক এ এইচ এম মাছউদুর রহমান আমার দেশকে জানান, গ্যাসের সাপ্লাই নেই। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটিও পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, এ অবস্থা হঠাৎ করেই হয়নি। গ্যাস সংকট দীর্ঘদিন ধরেই আছে।
তবে পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাহিদার মাত্র ৫৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শিল্পাঞ্চলে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাসের চাহিদা কত
দেশে বিদ্যুৎ, শিল্প, রান্নার চুলা, যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। অথচ সরবরাহ নেমেছে ২৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাসের উত্তোলন ১৭০ কোটির ঘরে, আর আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ১০০ কোটি ঘনফুট। এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, শিল্প ও বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। গত দেড় বছরে জ্বালানি মন্ত্রণালয় মাত্র ২৫টি শিল্প সংযোগে গ্যাস কমিশনিং বা সরবরাহ অনুমোদন করেছে। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে কয়েকটি রিগ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
নতুন আবেদন বন্ধ
গ্যাসের লোড বৃদ্ধি ও কারখানা সম্প্রসারণে জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানিতে পড়ে আছে ১৮৫৭টি আবেদন। এর মধ্যেই গত ১৪ জুলাই মন্ত্রণালয় চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘উৎপাদনে ক্রমহ্রাসমান’ ও কিছু জটিলতার কারণে আমদানি সীমাবদ্ধ থাকায় এই মুহূর্তে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি কোনো বিতরণ কোম্পানিই বিবেচনায় নিতে পারছে না। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ নাজমুল হক স্বাক্ষরিত চিঠির কপি সব বিতরণ কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের কোনো আবেদন গ্রহণ না করে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল আমার দেশকে জানান, দেশের বস্ত্রখাত এখন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমিত সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, চলতি মূলধনের ঘাটতি ও সীমিত ব্যাংক অর্থায়নের কারণে গত কয়েক বছরে বৃহৎ আকারের ২৪৪টি বস্ত্র কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।
বিটিএমএ সভাপতি জানান, দেশীয় বস্ত্র কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে সুতা আমদানি বাড়ছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ভারতসহ কয়েকটি দেশ থেকে ২৮ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার কটন সুতা আমদানি হয় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, শুধু গ্যাসের অভাবে রপ্তানিমুখী ৪৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এজন্য বিগত সরকারের জ্বালানি খাতে লুটপাট ও খাতটিকে বিদেশনির্ভর করে তোলাকে দায়ী করেন।
বকেয়ার দায়ে ভোগান্তি
শিল্পমালিকদের মধ্যে যাদের বকেয়া বিল পাঁচ কোটি টাকার বেশি, তাদের নিয়ে গত ১৯ জুলাই জরুরি সভা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এই বৈঠকে বৃহৎ আকারের ৫৪টি শিল্পমালিকের প্রতিনিধিকে ডাকা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, জ্বালানি সরবরাহ সমস্যার কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে। আর এ কারণে তারা বকেয়া বিল দিতে পারছেন না। যেসব প্রতিষ্ঠান বকেয়া দিতে পারছে না তাদের মধ্যে রয়েছে, এম এ মতিন কটন মিলস লিমিটেড, জিপিএইচ ইস্পাত, ওয়েল কম্পোজিট নিট, জিপিএইচ পাওয়ার জেনারেশন, সাউথ ইস্টার্ন পেপার, আর এ কে সিরামিকস, শামীম কম্পোজিট, মারহাবা সিনথেটিক, আয়মান টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি, মমটেক্স এক্সপো, শামীম স্পিনিং, কেয়া ইয়ার্ন মিলস, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশ ইন্ডাস্ট্রিজ, ম্যাকসন্স স্পিনিং, মমটেক্স, অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট, শাইনপুকুর সিরামিকস, গোমতী টেক্সটাইলস, কেয়া স্পিনিং, জারবা টেক্সটাইল, এক্স সিরামিকস, দ্য ডেল্টা কম্পোজিট, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, মাহমুদ ডেনিমস, সাফায়ার টেক্সটাইল, মনটেক্স, স্বাধীন ডাইং, ডং ব্যাং ডাইং, গ্রেট ওয়াল সিরামিকস, মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং ও তালহা টেক্সটাইল।
সরবরাহ না থাকলেও দাম বাড়ে
গত বছর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন শিল্প খাতে গ্যাসের নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করে। নতুন শিল্প সংযোগে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় উন্নীত করা হয় (প্রায় ৩৩% বৃদ্ধি)। নতুন ক্যাপটিভ পাওয়ার সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য ৩১.৫০ টাকা থেকে ৪২ টাকা প্রতি ঘনমিটারে নির্ধারণ করা হয়। অনুমোদিত লোডের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উচ্চতর মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিল্পের উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই নীতিমালা গ্রহণ ছাড়া শিল্প খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনা কঠিন হবে। অন্যথায় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি—তিন ক্ষেত্রেই সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। -আমার দেশ

