সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ৭ বছরে নিহত ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থী
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর। যা দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানীর ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৩২৮ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন।
রোড সেফটি নামের একটি বেসরকারি সংগঠন মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। দুর্ঘটনা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে, বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় এবং চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।
বছরওয়ারি হিসাবে ২০১৯ সালে ৬৯৩, ২০২০ সালে ৭১৯, ২০২১ সালে ৯৩৬, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সাড়ে ৭ বছরে অসাবধানে রেল লাইন পারাপারের সময় এবং কানে হেড ফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা ও ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে ৯২৭ জন। মোটরসাইকেরলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ জন। যা মোট প্রাণহানীর ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ।সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী প্রাণহানীর ৭ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হল, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং অনিরাপদ যানবাহন; নিরাপদে সড়ক ব্যবহারে অসচেতনতা; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা; বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা; ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বছরে একবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারভিযান আয়োজন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। -সমকাল

